বৈশ্বিক সমসাময়িক সমস্যা বলতে বর্তমান বিশ্বে একযোগে প্রভাব ফেলছে এমন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সংকটসমূহকে বোঝায়। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা আজ মানবসভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি, যার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাত—যেমন রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা—বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে এবং শরণার্থী সংকট সৃষ্টি করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশকেই চাপের মধ্যে ফেলেছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নৈতিকতা ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পাশাপাশি মহামারি-পরবর্তী স্বাস্থ্য সংকট, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কাশ্মীর সমস্যা
- ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ বিতাড়নকালে কাশ্মীর ছিল হিন্দুরাজা শাসিত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি করদ রাজ্য। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় এই রাজ্য মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের সাথে একীভূত হওয়ার কথা কিন্তু কাশ্মীরের শেষ রাজা হরি সিং ভারতে যোগদান করেন। এ থেকেই কাশ্মীর সমস্যার সূত্রপাত হয়।
- বর্তমানে কাশ্মীরের ৪৩% ভূমি ভারতের নিয়ন্ত্রণে [জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকা, লাদাখ, সিয়াচেন হিমবাহ], ৩৭% ভূমি পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে [আজাদ কাশ্মীর] এবং ২০% ভূমি চীনের নিয়ন্ত্রণে [আকসাই চীন, ট্রান্স কারাকোরাম ট্রাক্ট ] রয়েছে।
- এখন পর্যন্ত কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৯৯ সালে মোট ৩ বার যুদ্ধ হয়েছে। কাশ্মীর নিয়ে ভারত-চীনের মধ্যে ১৯৬২ সালে একবার যুদ্ধ হয়েছে।
- ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কের পুলওয়ামা নামক স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি গাড়িতে আত্মঘাতী বোমা হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এতে ৪০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
- ভারতের সংবিধানে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য প্রবর্তিত ৩৭০ অনুচ্ছেদ ও ৩৫[ক] ধারা বাতিল করা হয় - ৫ আগস্ট ২০১৯।
- ৩১ অক্টোবর ২০১৯ ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটি রাজ্যের মর্যাদা হারায়।
- ২০২৫ সালের পহেলগাঁম হামলা ছিল ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁমের কাছে কমপক্ষে তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসীর দ্বারা পর্যটকদের উপর করা একটি সন্ত্রাসী হামলা, যেখানে ২২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। জঙ্গিরা হিন্দু পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যদিও একজন খ্রিস্টান পর্যটক এবং একজন স্থানীয় মুসলিমও নিহত হয়। এম৪ কার্বাইন এবং একে-৪৭ নিয়ে সজ্জিত হামলাকারীরা আশেপাশের জঙ্গলের মধ্য দিয়ে বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র বৈসরন উপত্যকায় প্রবেশ করে। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর এই ঘটনাটিকে ভারতে বেসামরিক নাগরিকদের উপর সবচেয়ে মারাত্মক আক্রমণ বলে মনে করা হয়।
- 'জম্মু ও কাশ্মীর' এবং 'লাদাখ' কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ২৩৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দু'জন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ দেন।
- জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভার সদস্য সংখ্যা - ১০৭ জন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
চেচনিয়া সমস্যা : ককেশাস অঞ্চল অবস্থিত মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর অঞ্চলটি স্বাধীনতা ঘোষণা করে। প্রথম চেচেন যুদ্ধের [১৯৯৪-১৯৯৬] পর এ অঞ্চলটি মূলত স্বাধীন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধের [১৯৯৯-২০০০] পর রাশিয়া এ অঞ্চলে কর্তৃত্ব পুনঃ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়।
২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের মর্যাদার বিপ্লব ও প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের ক্ষমতাচ্যুতির প্রেক্ষাপটে অচিহ্নিত রুশ সৈন্যরা ক্রিমিয়ান উপদ্বীপে মোতায়েন হয়ে সরকারি ভবন, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং উপদ্বীপটিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে। রাশিয়াপন্থী একটি স্থানীয় সরকার গঠন করা হয় এবং দখলদারিত্বের মধ্যেই ১৬ মার্চ ২০১৪ একটি বিতর্কিত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যার ফলাফলের ভিত্তিতে রাশিয়া ১৮ মার্চ ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করে এবং সেভাস্তোপলকে ফেডারেল শহর ঘোষণা করে। ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অধিকাংশ দেশ এ পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অবৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে রাশিয়া ক্রিমিয়ায় নিজেদের সেনা উপস্থিতি স্বীকার করে এবং নিরাপত্তাজনিত যুক্তি দেখালেও ইউক্রেন বুদাপেস্ট স্মারকলিপিসহ আন্তর্জাতিক চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তোলে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আক্রমণের পর ক্রিমিয়া রুশ সামরিক অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, আর ইউক্রেন অঞ্চলটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে আসছে।
২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রাশিয়ার ইউক্রেন সমস্যা মূলত ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট একটি আন্তর্জাতিক সংকট। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের সরকার পরিবর্তনের পর রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল ও সংযুক্ত করে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয় এবং এর মাধ্যমে রুশ–ইউক্রেন সংঘাতের সূচনা হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘর্ষ চলতে থাকে। ২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন চালালে সংকটটি যুদ্ধের রূপ নেয়, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি, শরণার্থী সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। একদিকে রাশিয়া ন্যাটোর সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তা হুমকির কথা বলছে, অন্যদিকে ইউক্রেন তার স্বাধীনতা ও ভূখণ্ড রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে; এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থনে সংঘাতটি একটি বড় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন পুর্নমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বুলগেরিয়া
বেলারুশ
অস্ট্রিয়া
বেলজিয়াম
নাগর্নো-কারাবাখ, হচ্ছে দক্ষিণ ককেশাসের একটি স্থলবেষ্টিত অঞ্চল, কারবাক পাহাড়ী পরিসীমার মধ্যে, নিম্ন কারবাক এবং জংজুরের মধ্যে অবস্থিত, এবং ক্ষুদ্রতর ককেশাস পর্বতমালার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পরিসীমাকে আচ্ছাদন করে রেখেছে। এই অঞ্চলের বেশিরভাগই পাহাড় এবং বনভূমি।
নাগর্নো-কারাবাখ একটি বিতর্কিত অঞ্চল ছিল, আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত ছিল, যাতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে আজারবাইজান সম্পূর্ণরূপে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। অধিকাংশ অঞ্চলটি সদ্যলুপ্ত আর্টসাক প্রজাতন্ত্রের কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল (পূর্বে নাগর্নো-কারাবাখ প্রজাতন্ত্র), একটি আর্মেনিয়ান জাতিগত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আজারবাইজান সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের নাগর্নো-কারাবাখ স্বায়ত্তশাসিত এলাকার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল। ১৯৮৮ সালে কারাবাখ আন্দোলনের সূচনা হওয়ার পর থেকে আজারবাইজান এই অঞ্চলে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারেনি। ১৯৯৪ সালে নাগর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান সরকারের প্রতিনিধিরা এই অঞ্চলের বিতর্কিত অবস্থান সম্পর্কে ওএসসিই মিনস্ক গ্রুপের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা করছেন।
অঞ্চলটি ৪,৪০০ বর্গকিলোমিটার (১,৭০০ বর্গমাইল) জায়গা নিয়ে প্রশাসনিক সীমান্ত গুলোর সাথে সমান হয়। এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক অঞ্চলটি প্রায় ৮,২২৩ বর্গকিলোমিটার (৩,১৭৫ বর্গমাইল) জুড়ে রয়েছে।
নাগার্নো-কারাবাখ: আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার একটি করিডোর। ১৯৯৪ সালে এ অঞ্চলটি নিয়ে দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয় ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
উজবেকিস্থান - আর্মেনিয়া
আর্মেনিয়া - কাজাকিস্তান
উজবেকিস্থান - তাজিকিস্তান
আজারবাইজান-আর্মেনিয়া
রোহিঙ্গা সমস্যা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একটি আলোচিত সমস্যা বর্তমানে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উদ্বাস্ত জনসংখ্যা হলো- রোহিঙ্গা। মায়ানমারের আরাকান বা রাখাইন প্রদেশে বসবাসকারী মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা নামে পরিচিত। তবে মায়ানমান তদের নিজ জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করে না। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়- ১৯৮২ সালে। আরসা মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র সংগঠন।
- রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি নাম- Displaced People of Myanmar,
- আরসা প্রতিষ্ঠিত হয়- ২০১৩ সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা- আবু আম্মার জুনুনি আতাউল্লাহ । =
- মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন।
- আরসা বলতে বুঝায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি।
- আরসাকে পূর্বে বলা হত Faith Movement.
- স্থানীয়ভাবে আরসা পরিচিত "হারাকাত আল ইয়াকিন" নামে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বৈশ্বিক কেলেঙ্কারি বলতে বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতি, প্রতারণা বা অনিয়মকে বোঝানো হয়, যা বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, বড় কর্পোরেশন বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে জড়িত করে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে, যেমন পানামা পেপারস বা প্যারাডাইস পেপারস ফাঁস, যা বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের নাম প্রকাশ্যে এনেছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো সংস্থা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং বৈশ্বিক কেলেঙ্কারিগুলো বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ওয়াটার গেইট কেলেঙ্কারি বিশ্বের তাবৎ কেলেঙ্কারির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এবং জনপ্রিয়ও বটে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭তম প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এ ঘটনার খলনায়ক। ১৯৭২ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্রেট পার্টির রাজনৈতিক তথ্য শুনতে ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াটার গেইট ভবনে আড়িপাতার যন্ত্র বসায় ক্ষমতাসীন রিপাবলিক পার্টির প্রশাসনিক কর্মকর্তা । পরে এ ঘটনা ফাঁস করে দেন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার সাংবাদিক কার্ল বার্সটেইন। রিচার্ড নিক্সন বরাবরঃ এ ঘটনার সাথে হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তদন্তে রিপোর্টে ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যার ফলে নিক্সনের সম্পৃক্ততা লাইমলাইটে চলে আসে। নিক্সনের অফিস থেকে ওয়াটার গেইট কেলেঙ্কারির তদন্ত কর্মকর্তারা একটি টেপ রেকর্ডার উদ্ধার করেন যেটিতে নিক্সনের কথোপকথন রেকর্ড করা ছিল। এখানেই ফেঁসে যান তিনি এবং অভিশংসন হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ৯ আগস্ট, ১৯৭৪ সালে প্রেসিডেন্ট পদ হতে পদত্যাগ করেন।
- ওয়াটার গেট একটি বাণিজ্যিক ভবন। ঘটনার সাল ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ।
- কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ছিলেন- রিচার্ড নিক্সন
- এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রিচার্ড নিক্সন প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১৯৭৪ সালে।
- এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯৭৬ সালে All the Presidents Man নামে একটি সিনেমা তৈরি হয়।
- নিক্সন পদত্যাগ করলে সাংবিধানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হয় 'জেরাল্ড ফোর্ড।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ফোর্ডই একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হননি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পানামাভিত্তিক একটি আইনি সেবাদান প্রতিষ্ঠান থেকে বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ লুট ও করফাঁকির তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। হালের সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত এ ঘটনা পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত। মোসাক ফোনসেকা নামের এ প্রতিষ্ঠানটি কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানকে আইনি সহায়তা দিত। ১ কোটি ১৫ লাখ ফাসকত নথিতে উঠে আসে বিশ্বের মেইন্সট্রিম নেতৃবৃন্দের নাম। ১২ টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রায় দেড়শজন রাজনীতিবিদদের মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, শি জিনপিং এর পরিবারের করফাঁকি এবং অবৈধ উপায়ে সম্পদ আত্মসাৎকরণের জড়িত থাকার নথি ফাস হয়। এমনকি ফুটবল কিং লিওনেল মেসি এবং বলিউডের অমিতাভ বচ্চনের নামও এ তালিকায় উঠে আসে। এছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ওলাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ দেখেই যোশুগিণের অর্থপাচারের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রায় ৫০ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানও এ স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে পড়ে। মোলাক ফোনসেকার ডাটাবেজ থেকে ২ দশমিক ৬ টেরাবাইট তথ্য ফাঁস হয় যা সাম্প্রতিক সময়ের উইকিলিক্স থেকে ফ চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি।
ভারতের দ্বাদশ প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও, যাকে বলা হত আধুনিক ভারতের চাণক্য তিনিও একটি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। কেলেঙ্কারিটি ইতিহাসে হাওয়ালা কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত। কালো টাকা সংশ্লিষ্ট বলে একে হাওয়ালা বলা হয়। নরসিমা রাও ছাড়াও এ ঘটনায় বিজেপির ভি.সি. শুক্লা, শারদ যাদব, যদন লালার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের বিরুদ্ধে ১৮ মিলিয়ন রুপি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠে। পুরো ভারতে এর বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনা হলেও কার্যত এটার কোন বিচার হয়নি।
১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্ত্রভর্তি বিমান ইসরায়েল হয়ে ইরানের একটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পুরো ঘটনাটি খুব গোপনীয়তার সাথে একটি অস্ত্রচুক্তির মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়। অস্ত্র বিক্রির সম্পূর্ণ টাকা নিকারাগুয়ার কমিউনিস্ট সরকারের পতনের জন্য গড়ে উঠা কন্ট্রা বিদ্রোহী গ্রুপকে সাহায্য হিসেবে প্রদান করা হয়। কিন্তু লেবাননের একটি পত্রিকায় সে চুক্তিসহ অস্ত্রপাচারের পুরো ঘটনাটি ফাঁস হয়ে গেলে, এ ঘটনা ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর ফলাফল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭ তে জন টাওয়ার কমিশন তিনলক্ষ নথি পরীক্ষানিরীক্ষা করে প্রায় শ পাঁচেক সাক্ষাৎকার এবং ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে সমাপনী তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে। পদচ্যুত নিরাপত্তা সহকারী অলিভার নর্থকে এর পিছনে মূল হোতা হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া প্রেসিডেন্ট রিগ্যান ছাড়াও ঐসময়কার উপ-রাষ্ট্রপতি জর্জ সিনিয়র বুশকেও অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়। পরে অবশ্য রিগ্যান এই স্ক্যান্ডালের সকল দায় স্বীকার করে ক্ষমাও চান।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে থাকা কংগ্রেস সরকার আমলে, ১৯৮৬ সালে সুইডেনের অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বোফোর্সের সাথে ভারত সরকার দেড় হাজার কোটি রুপির একটি অস্ত্রচুক্তি করে। তখন সুইডেনের গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয় যে, এ অস্ত্রচুক্তির জন্য বোফোর্স ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রচুর উৎকোচ প্রদান করেছে। এ নিয়ে দেশবিদেশে তুমুল বিতর্কের জন্ম হয়। গান্ধীর অর্থমন্ত্রী প্রতাপ এ তথ্য ফাঁস করলে গান্ধীকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জীর মতে, বোফোর্স কোন কেলেঙ্কারি নয় এবং ভারতের কোন আদালত এটিকে কেলেঙ্কারি হিসেবে প্রমাণ করতে পারেননি। তিনি এ ঘটনাকে গণমাধ্যমে সৃষ্ট বলে দাবি করেন।